মূলত চীনের বাজারে গাড়ির বিক্রি হ্রাস এবং জ্বালানির বাড়তি খরচের অজুহাতে পূর্বাভাস কমিয়ে প্রতিষ্ঠানটি। মিউনিখভিত্তিক বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির কোম্পানিটি জানিয়েছে, কর-পরবর্তী সামগ্রিক মুনাফায় বড় ধরনের পতন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা। এ ঘোষণার পর ফ্রাংকফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে বিএমডব্লিউর শেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
বিএমডব্লিউর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের মূল মোটরগাড়ি বা অটোমোটিভ খাতের কর ও সুদপূর্ব আয়ের (ইবিআইটি) মার্জিন বা মুনাফার হার কমিয়ে ১-৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জন্য এ প্রিমিয়াম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ৪-৬ শতাংশ মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিল। পাশাপাশি কোম্পানিটি অটোমোটিভ খাতে নিয়োজিত পুঁজির বিপরীতে আয়ের (আরওসিই) লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে ১-৫ শতাংশে নামিয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৬-১০ শতাংশ।
ব্যবসায়িক এ ধাক্কার পেছনে মূল দুটি কারণ উল্লেখ করেছে বিএমডব্লিউ। প্রথমত, চীনের বাজার হচ্ছে বিএমডব্লিউর একক বৃহত্তম বাজার। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) চীনের বাজারে গাড়ির চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। যদিও ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে কোম্পানিটির গাড়ির বিক্রি কিছুটা বেড়েছে, তবে চীনের বাজারের বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তা যথেষ্ট না।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট বিএমডব্লিউর বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা বিএমডব্লিউর সামগ্রিক উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কোম্পানিটি আরো জানায়, এ ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ ক্রেতাদের গাড়ি কেনার আগ্রহ বা মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর বাইরে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুনর্গঠন বা সংস্কার প্রক্রিয়ার বাড়তি খরচও সংস্থাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
গত বুধবার এ নেতিবাচক ঘোষণা আসার পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শুরুতেই বিএমডব্লিউর শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে ৬০ ইউরো শূন্য ৮ সেন্টে নেমে আসে, যা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। পরে অবশ্য শেয়ারের দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬৩ ইউরো ৫৫ সেন্টে স্থির হলেও দিনশেষে তা ৬ শতাংশ পতনেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ দরপতনের ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিএমডব্লিউর শেয়ারের মোট মূল্য প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে, ফলে কোম্পানিটির সামগ্রিক বাজারমূল্য এখন ৩ হাজার ৯০০ কোটি ইউরোর নিচে নেমে এসেছে। আগামী ৩০ জুলাই বিএমডব্লিউ গ্রুপ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের আনুষ্ঠানিক অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।